নির্বাচনে অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র বেশি বরিশালে : কম জামালপুরে

নির্বাচনে অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র বেশি বরিশালে : কম জামালপুরে

চ্যানেল নিউজ ডেস্ক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪২ হাজার ৭৬১টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হবে। এসব ভোট কেন্দ্রের মধ্যে তিন হাজার ১১৫টি কেন্দ্রকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসবের মধ্যে বরিশালে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে। আর কম ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে জামালপুর ও নোয়াখালী জেলায়।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র বিবেচনায় পুলিশের বিশেষ শাখার সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একক আসন হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ (সদর ও সিটি করপোরেশন) আসনে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র সবচেয়ে বেশি। এই আসনে ১০০টি কেন্দ্রকে অতি ঝুঁকির তালিকায় রাখা হয়েছে। বরিশালের এই আসনের মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৭৬টি। ঝুঁকি বিবেচনায় কম কেন্দ্র জামালপুর ও নোয়াখালী জেলায়।

জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনের ৯টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আসনটিতে মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৮৮টি। কোনো কোনো কেন্দ্রে সংঘাত, হানাহানি, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে– এমন আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়ে পুলিশের বিশেষ শাখা প্রতিবেদন তৈরি করেছে। সে প্রতিবেদনেই এমন তথ্য উঠে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র বিবেচনায় পুলিশের বিশেষ শাখার সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেশের সব আসনের তিন হাজার ১১৫টি কেন্দ্রকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর আগের একটি প্রতিবেদনে সারাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ছিল ১৬ হাজার ৩৫৯টি। ঝুঁকি নেই এমন ভোটকেন্দ্র (সাধারণ) ১৭ হাজার ৬৫৬টি।

প্রতিবেদনে ঝুঁকি বিবেচনায় কম কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে ময়মনসিংহ-১১ আসনে ১টি, ময়নমনসিংহ-২ আসনে ৩টি, পাবনা-১ আসনে ৬টি, ঝিনাইদহ-৪ আসনে ৭টি, চট্টগ্রাম-২ আসনে ৩টি, নোয়াখালী-২ আসনে দুটি, নোয়াখালী-৬ আসনে ৬টি,  সাতক্ষীরা-১ আসনে ৫টি, টাঙ্গাইল-৮ আসনে ৯টি, ঢাকা-৩ আসনে ৭টি ও বরিশাল-১ আসনে দুটি।

ঝুঁকি বিবেচনায় সবচেয়ে বেশি কেন্দ্রের মধ্যে আছে চট্টগ্রাম-১০ আসনে ৯৪টি, ঢাকা-৭ আসনে ৯০টি, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ৮৪টি, পটুয়াখালী-৩ আসনে ৮০টি, ভোলা-২ আসনে ৭১টি, ঢাকা-৪ আসনে ৭০টি, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে ৬৮টি, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে ৫৯টি, লক্ষ্মীপুর-২ আসনে ৫৭টি, খুলনা-৪ আসনে ৫৮টি ও ময়মনসিংহ-৯ আসনে ৫৪টি কেন্দ্র।

পুলিশ সূত্র বলছে, অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ৩ জন পুলিশ সদস্য, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে দুজন ও সাধারণ কেন্দ্রে একজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করার প্রাথমিক পরিকল্পনা হয়েছে। পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের কাছে অস্ত্র ও ‘বডি-ওর্ন ক্যামেরা’ (ভিডিও ক্যামেরা, যা পোশাক বা ইউনিফর্মে যুক্ত করে রাখা যায়) থাকবে। এ ছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে ১৩ জন আনসার সদস্য থাকবেন। এর বাইরে সেনাবাহিনী, বিজিবি সদস্যরাসহ বিভিন্ন বাহিনী নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে।

নির্বাচনে পুলিশের করণীয়-বর্জনীয়
সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে পুলিশের দায়িত্বশীলতা এবং পেশাদার আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ব্যাপারে পুলিশ সদরদপ্তর মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যদের জন্য একটি লিখিত দিকনির্দেশনা দিয়েছে। বুকলেট আকারে প্রস্তুত করা ওই নির্দেশিকায় নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনে নিরপেক্ষতা, আইনগত সীমারেখা ও আচরণগত শৃঙ্খলার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সময় কোনো রাজনৈতিক দল, প্রার্থী বা সমর্থকের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করা যাবে না। সবার প্রতি নিরপেক্ষতা রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্কতা আরোপ করে বলা হয়েছে, দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় কোনো পুলিশ সদস্য ফেসবুক বা অন্য কোনো মাধ্যমে নির্বাচন সংক্রান্ত মন্তব্য, ছবি বা মতামত প্রকাশ করতে পারবেন না। সামাজিক মাধ্যমে রাজনৈতিক পোস্ট, কমেন্ট, শেয়ার দিতেও নিষেধ করা হয়েছে।

দায়িত্ব পালনের সময় অপ্রয়োজনে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যাবে না। ভোট গ্রহণের দিন ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফুটপাত কিংবা টং দোকানে বসা যাবে না। সেখানে বসে বাদাম, ভাপা পিঠা, চানাচুর, জিলাপি, বিস্কুট ও কলাসহ মুখরোচক কোনো খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। উদ্দেশ্যমূলকভাবে কেউ উস্কানি দিয়ে কথা রেকর্ড করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে পারে, এ জন্য সতর্ক থাকা জরুরি। জালভোট ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অপচেষ্টা হলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

আরও বলা হয়েছে, প্রার্থী অথবা প্রার্থীর এজেন্ট-সমর্থকের কাছ থেকে খাবার বা কোনো সুবিধা নেওয়া যাবে না। এমনকি তাদের সঙ্গে আলাপচারিতা থেকেও বিরত থাকতে হবে। প্রিজাইডিং অফিসারের অনুমতি ছাড়া ভোটকক্ষে প্রবেশ করা যাবে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলেই শুধু বলপ্রয়োগ করা যাবে।

ভোটকেন্দ্রে পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের সতর্ক থাকার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিয়মকানুন কঠোরভাবে পালন করতে হবে। ভোটকেন্দ্রবেষ্টিত এলাকার মধ্যে ধূমপান পুরোপুরি নিষিদ্ধ। দিয়াশলায়, লাইটারসহ দাহ্য পদার্থ বহনে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।

সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, ভোটকক্ষের ভেতর থেকে সরাসরি মিডিয়া সম্প্রচার ও একসঙ্গে দুজনের বেশি সাংবাদিক ভোটকক্ষে প্রবেশ করতে পারবে না। তারা সর্বোচ্চ ১০ মিনিট ভোটকক্ষে অবস্থান করতে পারবেন। গোপনকক্ষে ছবি বা ভিডিও করা নিষিদ্ধ।

Share this news as a Photo Card

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazartvsite-01713478536
09 February 2026

নির্বাচনে অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র বেশি বরিশালে : কম জামালপুরে

নিউজ লিংক কমেন্টসে